হ্যালো, প্রিয় দর্শক। কেমন আছেন সবাই। আশাকরি, সকলেই ভালো আছেন। আমরা আজকে আপনাদের সাথে শেয়ার করব। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন নিয়ম। কারণ, বর্তমান সময়ে বেশির ভাগ মানুষ প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন নিয়ে বিদেশ এ কাজকর্ম করতে যাচ্ছে। আর! কয়েক বছর কাজকর্ম করে, তারা ব্যাংকের লোন মিটিয়ে দিচ্ছে।
তো! আপনি ও যদি চান? তাহলে, আপনি ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে ঋণ সেবা নিয়ে বিদেশে কাজ বা চাকরী ও পড়াশুনা করতে যেতে পারেন। তবে, আপনাদের এই লোন সঠিক সময়ের ভিতরে পরিশোধ করতে হবে। নাহলে, আপনি ব্যাংকের কাছে যাকে জামিনদার করে যাবেন, সেই ব্যাক্তিকে এই লোন পরিশোধ করতে হতে পারে।
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন বা ঋণ সেবা সমূহ
প্রবাসী কল্যান ব্যাংক কয়েক ধরনের ঋণ সেবা বা লোন প্রদান করে থাকে। তবে, বর্তমান সময়ে অভিবাসী ঋণ ও পূনর্বাসন ঋণ এই দুটি সেবা বেশির ভাগ মানুষ গ্রহন করে। তবে, আমি আপনাদের সুবিধার জন্য নিচে প্রবাসী কল্যান ব্যাংকের ঋণ সেবাসমূহের তালিকা শেয়ার করছি।
- অভিবাসী ঋণ
- পূনর্বাসন ঋণ
- অভিবাসী বৃহৎ পরিবার ঋণ
- বিশেষ পুনর্বাসন ঋণ
- আত্মকর্মসংস্থানমূলক ঋণ
- নারী অভিবাসী ঋণ
- নারী পুনর্বাসন ঋণ
- প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক সাধারণ ঋণ
বর্তমান সময়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে এই কয়েক ধরনের ঋণ সেবাসমূহ প্রদান করে থাকে। এখন, আপনাদের যার যে ধরণের সমস্যা, আপনারা সেই ঋণ সেবাটি গ্রহন করতে পারেন।
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক অভিবাসন লোন নেওয়ার নিয়ম
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে অভিবাসন লোনটি সাধারণত প্রবাসীদের জন্য প্রদান করে থাকে। যারা দেশ ছেড়ে অন্য দেশে জীবিকা নির্বাহের জন্য অভিবাসী হয়। এক কথায় বলতে গেলে, দেশ ছেড়ে বিদেশগামী কর্মীদের জন্য এই ঋণ সেবা প্রদান করে থাকে। যাই হোক, বিদেশগামী কর্মীদের সহজ শর্তে জামানতবিহীন অভিবাসন ঋণ গ্রহণে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বিষয় সমূহ নিচে নিন্মরূপ-
- ব্যাংক কর্তৃক দেওয়া নির্দিষ্ট “অভিবাসী ঋণ” এর আবেদন ফরম বিনামূল্যে পূরণ করে, আবেদন ফরম জমা দিতে হবে।
- ঋণ আবেদনকারীর নিজস্ব পাসপোর্ট সাইজের ৪ কপি ছবি, ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি ও বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানাসহ, পৌরসভা/ইউনিয়ন পরিষদের সার্টিফিকেটের ফটোকপি জমা দিতে হবে।
- আবেদনকারীর অবশ্যই পাসপোর্ট, ভিসার কপি ও ম্যানপাওয়ার স্মার্ট কার্ডের ফটোকপি জমা দিতে হবে। এছাড়া, যদি লেবার কন্ট্রাক্ট পেপার থাকে, তবে তা প্রদান করা যেতে পারে, তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়।
- একজন জামিনদারের প্রয়োজন হবে এবং তার নিজস্ব নিম্নলিখিত কিছু নথি জমা দিতে হবে।যেমন: ১ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানাসহ পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদের সার্টিফিকেটের ফটোকপি।
- জামিনদারদের মধ্যে যে কোনো একজনের স্বাক্ষরযুক্ত ব্যাংকের তিনটি চেকের পাতা জমা দিতে হবে। এটি ঋণ পরিশোধের নিশ্চয়তা হিসেবে প্রয়োজনীয়।
- ঋণ গ্রহণের আগে আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখায় একটি হিসাব খুলতে হবে। এটি ঋণ বিতরণ ও পরবর্তী লেনদেনের সুবিধার জন্য বাধ্যতামূলক।
অভিবাসী ঋণ সীমা:
- নতুন ভিসার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩.০০ (তিন) লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ প্রদান করা হয়।
- রি-এন্ট্রি ভিসার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩.০০ (তিন) লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ প্রদান করা হয়।
অভিবাসী ঋণের মেয়াদ:
- নতুন ভিসার ক্ষেত্রে ঋণের মেয়াদ, সর্বোচ্চ ৩ (তিন) বছর পর্যন্ত চলবে।
- রি-এন্ট্রি ভিসার ক্ষেত্রে ঋণের মেয়াদ, সর্বোচ্চ ২ (দুই) বছর পর্যন্ত চলবে।
অভিবাসী ঋণের পরিশোধের সময়সূচী:
- ঋণের পরিশোধ ২ (দুই) মাস গ্রেস পিরিয়ড বাদ দিয়ে, মাসিক কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ করতে হবে।
অভিবাসী ঋণের সুদের হারঃ ৯% (সরল সুদ)।
বিঃদ্রঃ- আপনারা ব্যাংকে যথাযথ কাগজপত্রসহ আবেদন করতে হবে এবং আবেদন প্রাপ্তির পর ৭ (সাত) কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাংক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে, যে আপনাকে ঋণ প্রদান করা হবে কি? না। আর! হ্যাঁ। আপনারা এই অভিবাসী ঋণ নেওয়ার জন্যে কোন রকম সার্ভিস চার্জ দেওয়া লাগবে না।
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক পূনর্বাসন লোন নেওয়ার নিয়ম
বাংলাদেশী কোন নাগরিক যদি চাকরির উদ্দেশ্যে অন্য দেশে যান এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক অথবা নিয়োগদাতা কর্তৃক হয়রানির শিকার হয়ে দেশে ফিরে আসেন, তবে তিনি যদি স্বাবলম্বি হওয়ার জন্য কোনো ধরনের প্রকল্প শুরু করতে চান, তবে ব্যাংক ঐ ব্যক্তির ঋণের আবেদনের প্রেক্ষিতে সহজ শর্তে জামানত বা জামানত ব্যতিরেকে ব্যাংকে পুনর্বাসন ঋণ প্রদান করে থাকে। পূনর্বাসন ঋণ গ্রহণ করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বিষয় সমূহ নিচে নিন্মরূপ-
- প্রকল্প বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যেই এলাকায় অবস্থিত, সেই এলাকার ব্যাংক শাখায় ঋণের আবেদন করতে হবে।
- আবেদনকারীদের বিনামূল্যে সরবরাহকৃত ব্যাংকের নির্ধারিত আবেদন ফরমে আবেদন জমা দিতে হবে।
- আবেদনকারীর নিজস্ব সদ্য তোলা ৩ (তিন) কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি, এবং বর্তমান ঠিকানা ও স্থায়ী ঠিকানা সম্বলিত পৌরসভা/ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত সনদপত্র।
- এছাড়া, জামিনদারের সদ্য তোলা ২ (দুই) কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি, এবং বর্তমান ঠিকানা ও স্থায়ী ঠিকানা সম্বলিত পৌরসভা/ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত সনদপত্র। উল্লেখ্য যে, ঋণ পরিশোধে সক্ষম ঋণ আবেদনকারীর পিতা/মাতা/স্বামী/স্ত্রী/ভাই/বোন/নিকটতম আত্মীয় এবং ঋণ পরিশোধে সক্ষম এমন ব্যক্তি যিনি আর্থিকভাবে সচ্ছল ও সমাজে গণ্যমান্য, তিনি গ্যারান্টর হতে পারবেন।
- হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্সের ফটোকপি জমা দিতে হবে, তবে যদি ট্রেড লাইসেন্স না থাকে, তাহলে এর কারণ উল্লেখ করতে হবে।
- প্রকল্পের বিস্তারিত বিবরণসহ প্রকল্পের ঠিকানা এবং ২ (দুই) বছরের আয়-ব্যয় বিবরণী জমা দিতে হবে। এসব তথ্য ঋণ আবেদন প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় এবং প্রকল্পের আর্থিক স্থিতি সম্পর্কে সঠিক ধারণা প্রদান করবে।
- যদি প্রকল্প স্থান ভাড়া হয়, তবে ভাড়া বা লীজের চুক্তিপত্রের ফটোকপি জমা দিতে হবে এবং একটি Letter of Disclaimer নিতে হবে। আর যদি প্রকল্পের স্থান নিজস্ব হয়, তবে মালিকানার প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে।
- প্রকল্পে ঋণ গ্রহীতার নিজস্ব বিনিয়োগের ঘোষণাপত্র জমা দিতে হবে। এটি ঋণ আবেদন প্রক্রিয়ায় ঋণ গ্রহীতার আর্থিক অংশগ্রহণ ও প্রকল্পে বিনিয়োগের অবস্থানকে স্পষ্ট করবে।
- জামানতি সম্পত্তির ফটোকপি জমা দিতে হবে। এটি ঋণ গ্রহীতার পক্ষে ঋণের পরিশোধ নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হবে।
- বিদেশ থেকে প্রত্যাগমন সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্রের ফটোকপি জমা দিতে হবে। এটি ঋণ আবেদনকারী বা প্রকল্পের উদ্দেশ্য সম্পর্কিত তথ্য নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।
- প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেটের ফটোকপি (যদি প্রযোজ্য হয়) জমা দিতে হবে। এটি ঋণ আবেদনকারীর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কিত তথ্য সরবরাহ করবে।
- ব্যক্তিগত বা প্রকল্পের নামে কোনো সংস্থা, এনজিও, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে গৃহীত ঋণের ঘোষণাপত্র জমা দিতে হবে। এটি ঋণ গ্রহণের পূর্ববর্তী দায়-দেনা এবং আর্থিক স্থিতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা প্রদান করবে।
- ঋণ গ্রহীতার নিকট হতে নিজ নামীয় ৩ (তিন)টি স্বাক্ষরিত চেকের পাতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের হিসাব বিবরণী জমা দিতে হবে। এটি ঋণ পরিশোধের জন্য ঋণ গ্রহীতার আর্থিক সক্ষমতা ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য নিশ্চিত করবে।
পুনর্বাসন ঋণ সীমা:
- পুনর্বাসন ঋণ সীমা সর্বোচ্চ ৫০.০০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা।
- জামানতবিহীন ঋণ সর্বোচ্চ ৩.০০ (তিন) লক্ষ টাকা।
- ৩.০০ (তিন) লক্ষ টাকার উর্ধ্বে হতে ৫.০০ (পাঁচ) লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে সহজামানত গ্রহণ করতে হবে।
- ঋণের পরিমাণ ৫.০০ (পাঁচ) লক্ষ টাকার উর্ধ্বে হলে, ঋণের বিপরীতে ঋণ গ্রহীতা/ গ্যারান্টরের মালিকানাধীন স্থাবর সম্পত্তি রেজিস্ট্রি মর্টগেজমূলে ব্যাংকের অনুকূলে দায়বদ্ধ থাকবে।
পুনর্বাসন ঋণের মেয়াদ:
- পুনর্বাসন ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ১০ (দশ) বছর।
পুনর্বাসন ঋণের পরিশোধের সময়সূচী:
- পরিশোধসূচী ঋণের ধরণ অনুযায়ী কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে।
পুনর্বাসন ঋণের সুদের হারঃ ৯% (সরল সুদ)।
বিঃদ্রঃ- আপনারা নিজ এলাকার ব্যাংক শাখায় যথাযথ কাগজপত্রসহ আবেদন করতে হবে এবং আবেদন প্রাপ্তির পর ১০ (দশ) কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাংক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে, যে আপনাকে ঋণ প্রদান করা হবে কি? না। আর! হ্যাঁ। আপনারা এই পুনর্বাসন ঋণ নেওয়ার জন্যে কোন রকম সার্ভিস চার্জ দেওয়া লাগবে না।
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক সকল ঋণ সেবা নেওয়ার নিয়মাবলী
আপনাদের সুবিধার জন্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক আরো যে ঋণ সেবা গুলো রয়েছে। সেই সকল ঋণ সেবা নেওয়ার নিয়ম গুলো পিডিএফ আকারে নিচে শেয়ার করা হল। আপনারা পিডিএফ ফাইলটি ডাওনলোড করে, ঋণ গ্রহণে যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিষয় সম্পূর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন।
| ঋণ সেবা সমূহ | ঋণ গ্রহণে যোগ্যতা, কাগজপত্র ও নিয়মের PDF |
| অভিবাসী ঋণ | বিস্তারিত এখানে |
| পূনর্বাসন ঋণ | বিস্তারিত এখানে |
| অভিবাসী বৃহৎ পরিবার ঋণ | বিস্তারিত এখানে |
| বিশেষ পুনর্বাসন ঋণ | বিস্তারিত এখানে |
| আত্মকর্মসংস্থানমূলক ঋণ | বিস্তারিত এখানে |
| নারী অভিবাসী ঋণ | বিস্তারিত এখানে |
| নারী পুনর্বাসন ঋণ | বিস্তারিত এখানে |
| প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক সাধারণ ঋণ | বিস্তারিত এখানে |
বিঃদ্রঃ- আপনারা কেউ দালালের পাল্লায় পড়বেন না। দালালরা আপনাকে এটা ওটা বোঝাবে, যে আপনার কোন কাজপত্র লাগবে না। এই সেই ভুং চাং? এটা কিন্তু! ব্যাংকের কাজ তো সবাই সাবধানের সহিত কাজ করুন। আর! হ্যাঁ। সম্পূর্ণ খাঁটি বাংলায় সকল নিয়ম-কানুন লেখা আছে।
আমাদের শেষকথাঃ
আশাকরি, আপনারা আমাদের প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন নেওয়ার নিয়ম সম্পূর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। আপনাদের যদি, ঋণ নেওয়ার বিষয়ে কোন কিছু জানতে চান? তাহলে, আপনারা প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক এর (https://pkb.gov.bd/) এই ওয়েবসাইট ভিজিট করে বিস্তারিত জানুন! ধন্যবাদ